
✍️ইমতিয়াজ গফুর মারুফ :
তবে এই পদায়ন প্রক্রিয়াটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে কিছু স্পষ্ট অসামঞ্জস্য ও বৈষম্য চোখে পড়ে।
প্রথমত, দূরত্বের বিষয়টি কোনোভাবেই বিবেচনা করা হয়নি। অনেক শিক্ষিকাকে নিজ বাসস্থান থেকে প্রায় ৩৫-৪০ কিলোমিটার দূরে দুর্গম বা প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলে পদায়ন করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কৃষ্ণনগরের এক শিক্ষিকাকে পাঠানো হয়েছে বটুলীর মতো দূরবর্তী স্থানে, যা দৈনন্দিন যাতায়াত এবং মানসিক ও শারীরিক পরিস্থিতির দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। অথচ এর বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে—অনেকে নিজ বাড়ির একেবারে দোরগোড়াতেই পদায়ন পেয়েছেন। যদি পদায়নের ক্ষেত্রে দূরত্ব ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনা করা হতো, তবে শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ও একাগ্রতার সাথে শিক্ষাদান কার্যক্রমে মনোনিবেশ করতে পারতেন।
দ্বিতীয়ত, বিদ্যালয়গুলোর বাস্তব চাহিদা ও ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি। এর একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ ‘ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। এই বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই এবং একজন পুরুষ শিক্ষকও কর্মরত নেই। একটি বিদ্যালয় সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য এবং সার্বিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে একজন পুরুষ শিক্ষকের পদায়ন অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু নতুন পদায়নের ক্ষেত্রেও বিদ্যালয়ের এই দীর্ঘদিনের মৌলিক প্রয়োজনটি উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের কর্মস্পৃহা বজায় রাখার স্বার্থে এই ধরণের বৈষম্যমূলক পদায়ন পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করবেন এবং বিদ্যালয়গুলোর বাস্তব চাহিদা ও শিক্ষকদের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে একটি সুষম পদায়ন নীতি নিশ্চিত করবেন।
আপনার মতামত লিখুন :