
✍️ ইমতিয়াজ গফুর মারুফ
অদৃশ্য হাতের ছায়ায় বিষাক্ত পানি: জুড়ির নদী-খালে জীববৈচিত্র্যের মহোৎসব নয়, যেন মৃত্যুমঞ্চ!
জুড়ির বিল, খাল আর জলাশয়গুলোতে এখন আর চাঁদের আলো হাসে না, হাসে কিছু বিষবণিক আর তাদের পেটুয়া বাহিনী। প্রকাশ্য দিবালোকে খালে-বিলে কীটনাশক ঢেলে মাছ নিধন করা হচ্ছে। মাছ মরছে, জলজ প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে, মরছে পরিবেশ, আর সাথে ধুঁকে ধুঁকে মরছে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকুও।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—এসব কি সত্যিই প্রশাসনের চোখের আড়ালে ঘটছে?
বারবার অভিযোগ দেওয়া হলো, আকুতি জানানো হলো। কৃষি বিভাগকে বিনীত অনুরোধ করা হলো—”দয়া করে কীটনাশক বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে আনুন, যার-তার কাছে উন্মুক্ত বিষ বিক্রি বন্ধ করুন।” কিন্তু সেই আকুতি যেন এক অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া অরণ্যে রোদন! প্রশাসন যেন কানে তুলো আর চোখে কালো চশমা এঁটে বসে আছে।
সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, যখনই কোনো সচেতন নাগরিক বা ভুক্তভোগী এসব দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস দেখায়, অমনি বিষবণিকদের দৌরাত্ম্য দ্বিগুণ বেড়ে যায়! অভিযোগগুলো যেন কোনো এক বিষাক্ত জাদুমন্ত্রে মুহূর্তেই অদৃশ্য হয়ে যায়।
কোন সেই ‘অদৃশ্য শক্তি’, যা এই জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারীদের মাথার ওপর সবসময় সুরক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে? কোন গোপন আর্থিক স্বার্থে জুড়ির প্রাকৃতিক সম্পদ আর সাধারণ মানুষের অধিকারকে বিষাক্ত রাসায়নিকের কাছে বন্ধক দেওয়া হচ্ছে?
সাধারন জনগণ জানতে চায়—
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন কি সত্যিই লাচার, নাকি অপরাধের নীরব অংশীদার? যদি নিয়ন্ত্রণই করতে না পারেন, তবে ওই চেয়ারগুলোতে বসে থাকার অর্থ কী? নাকি জুড়ির জলাশয়গুলো পুরোপুরি প্রাণহীন ও মরুভূমি হওয়ার পর আপনাদের ঘুম ভাঙবে?
বিষ দিয়ে মাছ ধরা কেবল কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, এটি পরিবেশের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ গণহত্যা। এই অদৃশ্য শক্তির মুখোশ উন্মোচন করা না হলে এবং অনতিবিলম্বে কীটনাশক বিক্রিতে কড়া নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে, ইতিহাস কিন্তু কাউকেই ক্ষমা করবে না!
আপনার মতামত লিখুন :