
জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
“জ্ঞান বিজ্ঞানে করব জয়, সেরা হবো বিশ্বময়”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা-২০২৬ দুই দিনব্যাপী আয়োজনের কথা থাকলেও শুরু হওয়ার পরপরই একদিনেই শেষ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিজ্ঞান মেলা ১৯ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এই ২ দিন হওয়ার কথা থাকলেও উপজেলা প্রশাসন প্রথম দিনেই শেষ করে ২০ এপ্রিল সকালে পুরষ্কার বিতরণ করে। এতে করে পুরো আয়োজন নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে জুড়ী উপজেলা প্রশাসন এ মেলার আয়োজন করে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি থাকলেও তড়িঘড়ি করে একদিনেই কার্যক্রম শেষ করা হয় বলে অভিযোগ করেন অংশগ্রহণকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল।
অভিযোগ রয়েছে, মেলাটি নিয়ে পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণার অভাব ছিল। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগাম কোনো কার্যকর প্রচারণা না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান মেলার বিষয়ে অবগতই ছিল না। ফলে হাতেগোনা কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে, যা একটি জাতীয় পর্যায়ের বিজ্ঞান মেলার জন্য অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা অনেক আশা নিয়ে প্রজেক্ট তৈরি করেছিলাম। কিন্তু মেলা একদিনেই শেষ হয়ে যাওয়ায় ঠিকমতো উপস্থাপন করার সুযোগ পাইনি।”
একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “যদি আগে থেকে সঠিকভাবে জানানো হতো এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করা হতো, তাহলে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারত।”
এ বিষয়ে জুড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “সময় সংকটসহ কিছু প্রশাসনিক কারণে মেলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি আরও পরিকল্পিতভাবে করা হবে।”
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি স্বল্প সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করতে। এসএসসি পরীক্ষার জন্য প্রথম দিনেই প্রদর্শনী শেষ করা হয়েছে। কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, তবে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিজ্ঞান মেলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, নতুন উদ্ভাবন তুলে ধরা এবং বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তোলা। কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং প্রচার-প্রচারণার অভাবে সেই উদ্দেশ্য অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের জাতীয় কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলা এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :