
✍️ ইমতিয়াজ গফুর মারুফ :
গতকাল ছিল বিশ্ব শিক্ষক দিবস। আজ যখন খাতা-কলম হাতে স্মৃতির পাতায় চোখ রাখি, নিজের অজান্তেই ভেসে ওঠে সেই মানুষগুলোর মুখ—যাদের অপরিসীম ঋণ এই জীবনে কোনোদিনই শোধ হওয়ার নয়। আজ আমি যা কিছু অর্জন করেছি এবং যে মানুষটি হয়ে উঠেছি, তার শেকড় জুড়ে রয়েছে তাঁদেরই নিঃস্বার্থ শিক্ষা, শাসন আর আশীর্বাদ।
আমার শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হয়েছিল শ্রদ্ধেয় প্রয়াত নগেন্দ্র ঘোষ স্যারের কাছে। তিনি শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না, পরম মায়ায় কোলে-পিঠে করে আমাকে মানুষ করার এক আজীবন কারিগর ছিলেন।
আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক জনাব ইজাবত উল্লাহ, জনাব মোহাম্মদ আলী এবং জনাব রজব আলী আজ আর আমাদের মাঝে নেই। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁদের জান্নাতবাসী করুন। প্রয়াত জনাব হরিনারায়ণ কুর্মি স্যারকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করি।
একইভাবে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক জনাব আব্দুর রাজ্জাক, জনাব মহরম আলী, জনাব জমির উদ্দিন এবং জনাব আবদুল মতিন চৌধুরী—যাঁদের শাসন আর স্নেহমাখা ছায়ায় কেটেছিল আমার শৈশব ও কৈশোর, তাঁরাও আজ না ফেরার দেশে। পরম করুণাময়ের কাছে বিনীত প্রার্থনা, তিনি যেন তাঁদের সকলকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।প্রয়াত জনাব নিবারন চন্দ্র দাস এর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।
যাঁরা আজ সুস্থ শরীরে আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন, সেই শ্রদ্ধেয় জনাব আরমান আলী, জনাব রঞ্জিত দেবনাথ, জনাব ধীরেন্দ্র দেবনাথ,বিনয় কুমার শীলসহ আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে পথপ্রদর্শক সকল শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।
বিশেষভাবে স্মরণ করতে হয় জনাব মিলন চন্দ্র স্যারের কথা। তিনি সরাসরি আমার ক্লাসের শিক্ষক না হলেও, তাঁর জীবনদর্শন ও সান্নিধ্য থেকে আমি জীবন চলার বহু বড় বড় অনুপ্রেরণা ও শিক্ষা লাভ করেছি।
আর আমার কলেজ জীবনের শ্রদ্ধেয় প্রিন্সিপাল জনাব ফখর উদ্দিন—যাঁর ব্যক্তিত্ব, সান্নিধ্য এবং পিতৃসুলভ স্নেহ আমাকে জীবনের সবচেয়ে বাস্তব ও আসল পাঠগুলো শিখিয়েছে।
আমার শিক্ষকদেরকে জানাই আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা। আপনারা না থাকলে আজকের আমি কখনোই তৈরি হতে পারতাম না। আপনাদের এই অবদানের আলো আমার হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে জ্বলবে
আপনার মতামত লিখুন :