
✍️ ইমতিয়াজ গফুর মারুফ :
যাঁদের অনেকেই আজও অবজ্ঞাভরে ‘চৌকিদার’ বলে ডেকে যান, আসলে তাঁরাই গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে কাছের, বিপদের সময়ের প্রকৃত আপন মানুষ।
ইউনিয়ন পরিষদ নামক প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্রকে সচল রাখতে এই মানুষগুলো নীরবে কাজ করে যান। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে গ্রামের আনাচে-কানাচে শান্তি বজায় রাখা, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রান্তিক মানুষের সেবা করাই যেন তাঁদের আজীবনের ব্রত। অথচ দুঃখের বিষয় হলো, সমাজের একটি বড় অংশ এই মানুষগুলোর অবদানকে মূল্যায়ন তো দূরের কথা, অবমূল্যায়ন করতেও দ্বিধাবোধ করে না।
যুগে যুগে এই অবহেলিত, বঞ্চিত মানুষগুলোর চোখের পানি ও না পাওয়ার বেদনা কেউ দেখেনি। কিন্তু পরিবর্তনের হাওয়া এনেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর অপমানের নাগপাশ থেকে মুক্তি দিয়ে তিনি গ্রাম পুলিশদের বুকে আশার প্রদীপ জ্বেলে দিয়েছেন। অত্যন্ত সংবেদনশীল হৃদয়ে তিনি এই পেশার মর্যাদাকে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গ্রাম পুলিশ’ নামে ভূষিত করে গেজেট প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কেবল একটি প্রশাসনিক স্বীকৃতি নয়, এটি যেন অবহেলিত এই মানুষগুলোর বহু বছরের জমে থাকা কষ্ট আর দীর্ঘশ্বাসের এক সুমধুর সান্ত্বনা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই মহানুভবতা এবং গ্রাম পুলিশদের সার্বিক দুঃখ-কষ্ট, না পাওয়ার বেদনা ও বুকভরা আবেদন সরাসরি শোনার জন্য এবার সারাদেশের নিবেদিতপ্রাণ গ্রাম পুলিশদের নিয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এক মহাবিজয়ের মহাসমাবেশ। গ্রামীণ বাংলার এই অতন্দ্র প্রহরীদের পাশে দাঁড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, এই মহাসমাবেশ তারই এক অনন্য মেলবন্ধন।
গ্রাম বাংলার মাটির সাথে মিশে থাকা এই মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাঁদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার এই পথচলা সত্যিই এক ইতিহাসের সোনালী অধ্যায়।
আপনার মতামত লিখুন :